আবার দেখা হবে সূর্যালোকিত দিনে

ফেনীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চা দোকানির মৃত্যু, বাড়ি লকডাউন
  • 2
    Shares

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

‘উই উইল মিট এগেইন, ডোন্ট নো হোয়ের, ডোন্ট নো হোয়েন, বাট আই নো উই উইল মিট এগেইন সাম সানি ডে (We will meet again, Don’t know where, Don’t know when, but I know we will meet again some sunny day)’ । কথাগুলো একটি বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতের কয়েকটি লাইন। ১৯৩৯ সনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ব চলাকালীন খ্যাতিমান বৃটিশ সঙ্গীতশিল্পী এবং অভিনেত্রী ভেরা লিন এ গানটি গেয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন। কেবল বৃটিশ সৈনিক বা জনগণই নয়, গোটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিল এই সাড়া জাগানো গানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ব নিয়ে যত চলচ্চিত্র হয়েছে তার অধিকাংশটিতেই এ গানটি ব্যবহৃত হয়েছে। চলমান বিশ্ব করোনাভাইরাস সংকটে এ গানটি আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বৃটিশ রানি এলিজাবেথ গত ৫ এপ্রিল তার চার মিনিট নয় সেকেন্ডের এক অসাধারণ বিশেষ ভাষণে বৈশ্বিক করোনা সংকটে বৃটেনবাসীর দুর্ভোগ এবং অর্থনৈতিক কষ্টের দায়িত্ব স্বীকার করে জনগণকে নতুন বৃটেনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি তার এই ঐতিহাসিক ভাষণে জাতিকে সাহস জুগিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে পুনর্বার উচ্চারণ করেছেন সেই বিখ্যাত সঙ্গীত ‘উই উইল মিট এগেইন’। তার এ ভাষণে বৃটেনবাসী এবং বিশ্ববাসী নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে, উৎসাহিত হয়েছে।

আমরা কেমন আছি? কেমন আছে বাংলাদেশ? কেমন আছে গোটা বিশ্ব? উত্তর সহজ- ঘরে অবস্থান, সামাজিক বা শারীরিক দূরত্বে, ছুটি বা লকডাউনে, পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-দুখে, কাজে বা অলসতায়, টেলিভিশন দেখে বা বই পড়ে, ফেসবুক বা বন্ধু-প্রিয়জনদের সাথে ভিডিও-আলাপচারিতায়, সর্বোপরি করোনা আক্রমণের উৎকণ্ঠায়। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল সেবাদানকারী সংস্থার কর্মীদের জীবনের সকল ঝুঁকি নিয়ে কর্মতৎপরতা সম্মানীয়, প্রশংশনীয়। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি স্থানজুড়ে লকডাউন চলছে। বিশ্ববাসীর জন্য এ এক অতি মূল্যবান বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। বিনিময়ে দিতে হচ্ছে জীবন, যাপন, সমাজ, সভ্যতা ও অর্থনীতির ধ্বস।

২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২৭,৫৯,৮৯২। মৃত্যুর সংখ্যা ১,৯৩,১৪৫ জন এবং আক্রান্ত দেশ ২১০টি। বাংলাদেশে একই সময়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪,৬৮৯ এবং মৃত্যর সংখ্যা ১৩১ জন। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে দেশের ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। ঢাকার ১১৭টি এলাকায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর করোনা সংক্রমণ দ্রত ছড়াচ্ছে গাজীপুরে। এছাড়া নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ হচ্ছে করোনা ছড়ানোর নতুন স্পট। এছাড়া নতুন করে উৎকণ্ঠার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে লকডাউন উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাখো মানুষের জানাজা নামাজ। সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গাদাগাদি করেই মানুষ কেনাকাটা করতে যাচ্ছে যা রোগ বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

২০১৯ এর ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে ২০২০ সনের ৯ জানুয়ারি। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বের ২১০টি দেশে। বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ এবং রোগী মৃত্যুবরণ করে ১৮ মার্চ। বিশ্বব্যাপী করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থতার ঘটনা যেমন আছে, তেমন সফলতার কাহিনী আছে। যে সমস্ত দেশ প্রথম দিকে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি সে সমস্ত দেশে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেশি এবং যে সমস্ত দেশ প্রথম থেকেই গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কম। এখানে ধনী-দরিদ্র দেশের বিষয় আসেনি, কোন দেশ কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। প্রথম থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দায়িত্বশীলতার সাথে সময়োপযোগী গাইডলাইন এবং নির্দেশনা দিয়ে আসছে। প্রথমেই সংস্থাটি ব্যাপক পরীক্ষার কথা বলেছে। সাথে সাথে বলেছে উৎপত্তি নিয়ন্ত্রণ, রোগনির্ণয় এবং দ্রত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। যে সমস্ত দেশ এই নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থা নিয়েছে তাদের সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার দুটোই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এর গতিবিধি, সংক্রমণের ধারা, মানুষের শরীরে পরিবর্তন (প্যাথলজি), উপসর্গ এবং মৃত্যুর কারণ বোঝা কষ্টসাধ্য হয়। অসংখ্য গবেষণা চলছে কোভিড -১৯ রোগটি বোঝার জন্য, প্রতিষেধক আবিষ্কারের, চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণের।

ইতোমধ্যে চীন, জার্মান, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষেধক আবিষ্কারের শেষ ধাপ মানবদেহে পরীক্ষা চালাচ্ছে। আমরা আশাবাদী তারা সফল হবে – তাহলে বেঁচে যাবে বিশ্বের কোটি প্রাণ। সফলতার কিছু ঘটনা নিয়ে যদি আলোচনা করি তাহলে প্রথমেই আসে দক্ষিণ কোরিয়ার কথা। ২৪ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০,৭০৮ এবং মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ২৪০ জন। তারা শুরুতেই যে কার্যক্রমগুলো গ্রহণ করেছে তা হলো -১) ব্যাপক পরীক্ষা, ২) সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ ৩) শনাক্ত রোগীদের দ্রুত চিকিত্সা প্রদান ৪) জনগণকে সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ এবং বাস্তবায়ন করা ৫) চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখা।

এরপর পাশের দেশ ভারতের কেরালা রাজ্যের ব্যবস্থা এখন বিশ্বে “কেরালা মডেল ” হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। ২৪ এপ্রিল কেরালার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৪৮ এবং মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ৩ জন। কেরালার বৈশিষ্ট হলো কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং পাশাপাশি মানবিক পদক্ষেপ ও আচরণ। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কেরালা সরকার একই পদক্ষেপ শুরু থেকে নিয়েছে। দরিদ্রের জন্য অস্থায়ী আবাসন এবং ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছে। এ ধরনের সফলতার কাহিনী আরও রয়েছে জার্মান, নেপাল, ভূটান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, শ্রীলংকা, হংকং, সিঙ্গাপুর, সেনেগাল, লাইবেরিয়া ও নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে।

অন্যদিকে আমেরিকা প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দেড় মাস সময় পেয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, গাফিলতির মধ্যে থাকায় ব্যাপকভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। সংক্রমণের সর্বমোট সংখ্যার প্রায় ষাট ভাগ আমেরিকা ও ইউরোপে। একইভাবে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃটেন, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনে লক্ষনীয়।

বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সে মোতাবেক সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারছে না তাতে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা আছে যদি না আরও গতিশীল বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ না করে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রসারতা তিন মাস পরে শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। না কোয়ারেন্টাইন, না ঠিকানা সংরক্ষণ। প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল রোগের প্রধান সূত্র হবে আক্রান্ত দেশের প্রবাসীরা। বাংলাদেশের করোনা প্রতিরোধের প্রধান সমস্যাগুলো হলো- ১) বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব, সমন্বয় ও চেইন অব কমান্ডের অভাব ২) পরীক্ষা বিলম্বে শুরু ও ধীরগতি ৩) গোটা বাংলাদেশে প্রবাসীদের সহজ বিচরণ ৪) অপর্যাপ্ত আইসিইউ ৫) মানহীন মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী ৬) হাসপাতাল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের অব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে গণমাধ্যমের ভাষায় “অব্যবস্থা ও সমন্বহীনতাই” মূল কারণ। বাংলাদেশ একটি নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। আমাদের অনেক ধরনের সীমাবদ্ধ থাকা স্বাভাবিক। সে জন্য এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিতভাবে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ সুবিধা ও শক্তি প্রয়োগ করে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু ভুল মানুষ, ভুল পথ, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশিদূর এগোনো যাবে না। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের যে মানবসম্পদ এবং জোগান রয়েছে পরিকল্পিতভাবে সঠিক উপায়ে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, করোনা প্রতিরোধে অংশগ্রহণকারী সকলকে নিরন্তর সাহস, মনোবল, উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন। স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য খাদ্য, অর্থের ব্যবস্থা করেছেন। সবাইকে নিরাপদে রেখে দেশের আর্থ-সামাজিক গতিশীলতা রক্ষা করার জন্য নানা কর্মসূচির গ্রহণ করেছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা ও ভুল-ত্রুটি শুধরিয়ে আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই- একমতে একসাথে।

বর্তমানে জরুরি করণীয়

১. চিকিৎসা ব্যবস্থা: কোভিড ও ননকোভিড রোগীদের জন্য একেবারেই আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে- কোনোক্রমেই সংমিশ্রণের সুযোগ রাখা যাবে না। অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। আউট ডোর সার্ভিস আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। সম্প্রসারিত জরুরি বিভাগ চালু রাখতে হবে। টেলিমেডিসিনের ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে করতে হবে মহানগর থেকে উপজেলা পর্যন্ত যাতে দেশের সকল মানুষ এই সুবিধাটা সহজে পেতে পারে। চিকিৎকরা স্ব উদ্যোগে ইতোমধ্যেই এটা চালু করেছে। বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখবে। প্রত্যেক হাসপাতালের ফিভার/ফ্লু কর্নার নিয়মিত করতে হবে।
২) চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী : অধিক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হলে অধিক মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুর আশঙ্কা প্রমাণিত। অহেতুক হয়রানি না করে তাদের উৎসাহিত, উদ্বুদ্ধ, মনোবল শক্ত করে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন মাস্ক, পিপিইসহ সামগ্রী জোগান দিতে হবে।
৩) পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা : যত দ্রুত সম্ভব মান নিয়ন্ত্রণ রেখে পরীক্ষার সংখ্যা এবং সুযোগ বাড়াতে হবে।
৪) সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্তকরণ: এ সময়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য এ কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনির সমন্বয়ে তৃনমূল থেকে সকল পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
৪) আইসিইউ : আইসিইউসহ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। যে দেশে আইসিইউ শয্যাসংখ্যা বেশি সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা কম।
৫) ব্যবস্থাপনা : নেতৃত্ব, চেইন অব কমান্ড, সমন্বয় সুদৃঢ় থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে এটিও একটি ভয়ানক যুদ্ধ। যুদ্ধের সকল কৌশল অনুসরণ করতে হবে। যার যার দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে যাতে সহকর্মীদের ভেতর কোনো অসন্তোষ না থাকে।
৬) জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ : সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কঠোর অনুশাসনের পাশাপাশি মানবিক আচরণ থাকতে করতে হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে উৎসাহিত, উদ্দীপ্ত রাখতে হবে। কিছু কিছু শব্দ যেমন লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইন, সামাজিক দূরত্ব ইত্যাদি শব্দ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা ও উপকারিতাসহ জনগণকে বোঝাতে হবে।
৭) ত্রাণ বিতরণ : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নিম্ন আয়ের মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। অযথা জমায়েতের মাধ্যমে খাবার বিতরণের প্রক্রিয়া বন্ধ করে সংক্রমণের সুযোগ রোধ করতে হবে।
৮) বাড়িতে অবস্থানরত (হোম কোয়ারেন্টাইন) মানুষদের মানসিক অবস্থা সজীব রাখার জন্য গণমাধ্যমের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান পুনপ্রচার করা যেতে পারে। বাড়িতে অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো সুস্থ মানুষকে সুস্থ রাখা। কোভিড-১৯ এর শতকরা ৮২ ভাগ রোগী স্বাস্থবিধি মেনে বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

পরস্পরবিরোধী অবস্থান নয়- সবাই মিলে দলমত নির্বিশেষে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে। করোনাভাইরাসের কাছে কেউ নিরাপদ নয় । ভুল-ত্রুটি শুধরিয়ে এখন সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়- সম্মিলিত আন্তরিক প্রয়াস ছাড়া এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে না। একদিন করোনাভাইরাস চলে যাবে- পেছনে রেখে যাবে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিম্নতম পর্যায়ে রাখাই হবে আমাদের সকলের সম্মিলিত আন্তরিক প্রয়াস। আবার ঘুরে দাঁড়াব আমরা স্বাভাবিক জীবনের পথে। বাংলাদেশের মানুষ বহুবার পূর্ব দিগন্তে নতুন সূর্য এনেছে। একদিন স্বাভাবিক হয়ে আসবে পৃথিবী, স্বাভাবিক হয়ে যাবে বাংলাদেশ, স্বাভাবিক হয়ে আসবে জন-জীবন, ঘর থেকে বেরিয়ে আসব আমরা সবাই, নতুন দিনের প্রত্যাশায়- আবার আমাদের দেখা হবে সূর্যালোকিত দিনে।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।