আমাদের প্রিয় শিক্ষক ফোরকান স্যার, লেখকঃ সাব্বির হোসেন

  • 768
    Shares

সবারই প্রিয় শিক্ষক থাকে, আমি ও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই স্মৃতিপট থেকে শৈশব কৈশোরের খুব কাছ থেকে দেখা আমার প্রিয় শিক্ষক ফোরকান স্যার সম্পর্কে কিছু লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। তবে তার আগে একজন আদর্শ শিক্ষক কি সে সম্পর্কে কিছু লিখবো।

আজ কাল শিক্ষা হল পন্য এবং বানিজ্যিক একটা ক্ষেত্র। মানুষ গড়ার কারখানা হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। বাবা মা সন্তান-সন্ততি জন্ম দিতে পারেন, লালন পালন করতে পারেন। নিজের সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে তোলার স্বপ্ন দেখতে পারেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বাবা ও মায়ের সেই সন্তানকে গড়ে তোলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি মানুষ গড়বার কারখানা হয়ে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে শিক্ষকরা সেই কারখানার কারিগর।

প্রতিটি ছাত্রের কাছে একজন শিক্ষক হলেন আয়নার মতো। তবে সব শিক্ষকই আবার সচরাচর আয়নার মতো নয়। শিক্ষকরা হলেন এমন এক আয়না যার সামনে দাঁড়ালে কেউ দেখেন অদূর ভবিষ্যতের ভাগ্যাকাশে জ্বলতে থাকা কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। আবার সেই একই আয়নার সামনে দাঁড়ালে কেউবা দেখেন অন্ধকার বিভীষিকাময় ভবিষ্যত।

একজন শিক্ষকের মাঝে যে ছাত্ররা তাদের ভবিষ্যতের উজ্জল নক্ষত্রকে দেখতে পায় তারাই জীবনে জেগে উঠে বিজলির মতো। আর যারা সেটা দেখতে ব্যর্থ হয়, তারা ঝরা ফুলের মতো ঝরে পড়ে নিরবে নিঃশব্দে। গাছের তলায় পড়ে থেকে শুকিয়ে মিশে যায় মাটির সঙ্গে। একজন ছাত্রকে যেমন তার শিক্ষকের মাঝে খুঁজে নিতে হবে ভবিষ্যৎ পথ চলার দিকনির্দেশনা ঠিক তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষকের আদর্শটা হতে হবে তিনি শিক্ষার্থীদের কতটা সহজভাবে আয়না হয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখাতে পারলেন।

উপরে বর্নিত সব গুনাবলীর অধিকারী ছিলেন কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ এর শিক্ষক ফোরকান স্যার। আমাদের সময়কার সব শিক্ষকই আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। তারপরও তিনি ছিলেন একটু ব্যতিক্রমী। আমি যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকে তাকে আমি কাছে পেয়েছিলাম। একজন মানুষ শিক্ষক হিসাবে এত দৃঢ় চেতা, নীতি নৈতিকতা, সাহসীকতা ও ধার্মিপরায়ন হতে পারে তা বর্তমান শিক্ষক সমাজে বিরল। শিক্ষাকে তিনি ব্রত হিসাবে নিয়েছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর ব্যপারে তিনি ছিলেন কঠোর, আপোষহীন ও তুলনাহীন । অধ্যবসায়, নিয়মানুবর্তীতা ও সময়ের মুল্য কি তার বাস্তব দৃষ্টান্ত ছিল স্যার।

আমাদের ব্যাচের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ছিলাম দুষ্ট প্রকৃতির কিন্ত পড়াশোনার ব্যাপারে সবাই ছিল সিরিয়াস ও প্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদের কে দমন করতে স্যার সব সময় ২টি বেত নিয়ে ক্লাসে আসতেন ও কোনরকম ছাড় দিতেন না। কিন্তু শত দুস্টামী করলেও স্যার আমাদের কে ভাল জানতেন তবে বুঝতে দিতেন না। স্যারের হাতে বেতের আঘাত খায়নি এমন কোন ছাত্রছাত্রী ছিল না। আমাদের ব্যাচের মেধা সম্পর্কে স্যার বলতেন আমরা সিরিয়াসলি পড়াশোনা করলে অনেক ভাল করতাম।

স্যার ছিলেন খুবই ঠান্ডা প্রকৃতির, অন্যায়ের সাথে আপোষহীন, ধার্মিক, শিক্ষাবিদ, ও কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ, বাউফল উপজেলার সেরা বিদ্যালয় বানানোর একজন আলোকিত মানুষ। সারাটা জীবন এই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও পড়াশোনার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সকল ধরনের অপশক্তি থেকে বিদ্যালয়কে মুক্ত রাখার জন্য চেষ্টা করে গেছেন এই মহান আদর্শ শিক্ষক। যার অনুপ্রেরণায় আজ এই বিদ্যালয়ের বহু ছাত্রছাত্রী প্রতিযোগীতামুলক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে সমাজের ও দেশের বিভিন্ন পদে অবস্থান করছেন। এসবই ফোরকান স্যরের অবদান।

ফোরকান স্যার , একটি নাম, একটি প্রেরণা, একটি ইতিহাস। সূর্যের মতো পুড়তে পুড়তে যিনি সূর্যের মতো জ্বলে আলোকিত করেছেন কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের বহু ছাত্রছাত্রী । সমস্ত অভাব, বঞ্চণা ও নিগ্রহকে মাড়িয়ে অনেক ছাত্র ছাত্রীকে দেশের উচ্চশিখরে যেমনঃ বিচারক, উচ্চপদস্থ সামারিক বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী, শিক্ষক, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার ও অনেক বড় বড় স্থানে জায়গা পেয়েছে অনেকে।