এ এক অন্যরকম র‌্যাব

এ এক অন্যরকম র‌্যাব

সবার কাঁধেই ব্যাগ, বস্তা। কে অফিসার, কে সৈনিক বোঝার কোনো উপায় নেই। সবাই হাঁটছেন বাসা-বাড়ির দরজার দিকে। কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, কখনো রোদে পুড়ে তাদের এই চলা। বাসা-বাড়ির দরজার সমানে ব্যাগ বা বস্তা রেখেই বন্ধ দরজায় টোকা দিয়ে ডাকছেন, ‘দরজা খুলুন। আমরা র‌্যাব-১১ থেকে এসেছি, আপনাদের জন্য খাবর নিয়ে।’ র‌্যাবের কথা শুনেই লকডাউনে আটকে পড়া ঘরের লোকজন দরজা খুলছেন। তাদের হাতে খাদ্য সামগ্রীর বস্তা তুলে দিচ্ছেন র‌্যাব-১১ কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

নারায়ণগঞ্জ লকডাউনের পর থেকে এভাবেই ঘরবন্দি মানুষের বাড়ির সামনে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন র‌্যাব-১১ সদস্যরা। যাদের বাড়িতে ছোট শিশু রয়েছেন তাদের দুধ কেনার জন্য দিচ্ছেন নগদ অর্থ। মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন ও আইন শৃংখলা রক্ষায় নানামুখি অভিযান নিয়েই যাদের কর্মতৎপরতা, সেই র‌্যাবকে এবার এভাবেই দেখছে নারায়ণগঞ্জের মানুষ। এ এক অন্যরকম র‌্যাব।

rab

করোনার থাবায় দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা নারায়ণগঞ্জ। জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৬২৫ জন। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমন সংকটময় মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব-১১। দিনের বেলায় লকডাউন মেনে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। আর রাতে অসহায় গরিবদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার ও ত্রাণ।

এরই মধ্যে তালিকা করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মানুষের বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিচ্ছেন তারা। এলাকাবাসীকে ঘরে রাখতে ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে র‌্যাবের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাঝে ইতোমধ্যে র‌্যাবের ২০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোও হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আলেপ উদ্দিন (পিপিএম)।

rab

ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে নেতৃত্ব দেয়া সিনিয়র সহকারী পরিচালক আলেপ উদ্দিন (পিপিএম) জানান, র‌্যাব সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। এ দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের কর্তব্য। তাই ঝুঁকি জেনেও আমরা পিছপা হচ্ছি না। আমাদের প্রত্যেক সদস্য অসহায় মানুষদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা রাতে ত্রাণ দেয়া প্রসঙ্গে জানান, দিনে আইন-শৃংখলা রক্ষা ও লকডাউন মানার জন্য ডিউটি করতে হয়। এছাড়া দিনে ত্রাণ দিলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হয় না। এজন্য আমরা রাতেই ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখন কিছু কিছু প্রয়োজনীয় জায়গায় দিনের বেলাতেও ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ইতোমধ্যে মানবিক অফিসার খেতাব পাওয়া এ কর্মকর্তা।

rab

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্রাণ পাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জের এক বাসিন্দা জানান, মধ্যরাতে আমাদের বাসায় খাবার দিয়ে গেছেন র‌্যাবের লোকজন। লকডাউনের কারণে আমাদের খাবার ফুরিয়ে গিয়েছিল। এ দুঃসময়ে র‌্যাবের দেয়া খাবার তার অনেক উপকারে আসবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাবের ত্রাণ দেয়ার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের এমন কর্মকাণ্ডের ছবি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে র‌্যাবের প্রতি আহ্বান জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

হোসেন চিশতী সিপলু/এফএ/জেআইএম