করোনাকালে মানবতার দিশারি ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষ

করোনাকালে মানবতার দিশারি ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষ
  • 3
    Shares

বেশ কষ্টে ১’শ টাকা জমিয়ে ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারের চাউল কিনতে ট্রাকের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা জুলেখা বেগম। ১’শ টাকায় ১০ কেজি চাউল পাবেন! ভাগ্যবানদের‌ এমন তালিকায় নিজেকে দেখে হাজার কষ্টের মাঝেও কিছুটা স্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি।

কিন্তু চাউল নিয়ে টাকা দিতে গিয়েই চমকে গেলেন তিনি।

না টাকা দিতে হবে না!

কেন বাবা?

আপনি একা নন! এই লাইনে যারা দাঁড়িয়েছে সবার চালের টাকাই একজন ব্যবসায়ী আগাম পরিশোধ করে দিয়েছেন। ওএমএসের ট্রাকে থাকা ডিলারের এক কর্মীর মুখে এমন কথা শুনে আবেগে দু চোখ ছল ছল করে উঠলো জুলেখা বেগমের।

মনের অজান্তেই অদৃশ্য থাকা সেই ব্যবসায়ীর জন্য বুক ভরে দোয়া করলেন তিনি।

প্রচারের আড়ালে থাকা সাভারের তরুণ এই ব্যবসায়ীর নাম রঞ্জিত ঘোষ। তিনি পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার বীরেন কুমার ঘোষের ছেলে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে কর্মহীন মানুষকে সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশব্যাপী চালু হওয়া ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রির বিশেষ ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) বা খোলাবাজারে চাউল বিক্রির খাদ্যবান্ধব কার্যক্রম হাতে নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী কিংবা দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত- যারা আগে সরকারের কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করেননি সাভার পৌর এলাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে এমন ২২’শ পরিবারে মাথাপিছু ১০ টাকা কেজি দরের চাউলের সমুদয় টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী।

কেবল ওএমএসের চাউলই নয়, ইতিমধ্যে ১৫ হাজার মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন চাল, মসুর ডাল, ছোলা, আলু, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি, তেল, হুইল পাউডার, সাবানসহ ১৪ আইটেমের বিশেষ উপহার

আরকে এন্টারপ্রাইজ, আরকে জুয়েলার্স, আরকে ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, আরকে ইমিগ্রেশনের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান জানান, মহামারি করোনার সূচনা থেকেই মানবতার জন্য আমরা কাজ করছি। বাংলা নববর্ষের দিনেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা খাবার পৌঁছে দিয়েছি। প্রতিদিন ৫০ জনের বিশেষ একটি দল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত করে এবং আরেকটি দল তা বিতরণ করে।

অবশ্য অনেক অনুরোধের পর সাইদুর রহমানের মাধ্যমে রঞ্জিত ঘোষ সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমদিকে নিজের মানবিক তৎপরতা নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতেও রাজি হননি।

যেখানে ব্যবসায়ীরা সব সময় মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লোভ করেন সেখানে তার এই কার্যক্রম একেবারেই বিপরীত। যা অনেকের জন্য হতে পারে অনুকরণীয়। এটা জানানো হলে পরে তিনি সরাসরি কথা বলতে সম্মত হন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ।

ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষ বলেন, দেখুন আমি কোনো কিছুর লক্ষ্য নিয়ে এই কাজগুলো করছিনা। আমি যা করছি তা সামান্য কিছু মানুষের উপকারে আসছে এবং তা মহান সৃষ্টিকর্তা দেখছেন। সেটাই যথেষ্ট।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পবিত্র রমজান মাস জুড়েই শ্রমজীবী দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত রোজাদারদের ইফতারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন অব্যাহত রাখব পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে আমার অন্যান্য সব ধরনের মানবিক সহযোগিতা- যোগ করেন এই ব্যবসায়ী।

তার এই মানবিক কার্যক্রমে সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা।

যোগাযোগ করা হলে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি জানান, ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষ সত্যিকারের মানবতার দিশারি। তিনি ব্যবসায়ীদের চোখ খুলে দিয়েছেন। সবাই যখন মুনাফার কথা ভাবেন তখন তিনি ব্যতিক্রম। নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন মানবতার কল্যাণে। এই রঞ্জিত ঘোষরাই বাংলাদেশের আসল হিরো – যোগ করেন ডা. এনামুর রহমান।