করোনার ভয়ে হাসপাতালের আয়াকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো এলাকাবাসী

করোনার ভয়ে হাসপাতালের আয়াকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো এলাকাবাসী
  • 6
    Shares

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া সাখিনা বেগমকে (৩৮) হাসপাতালে কাজ করার কারণে করোনাভাইরাসের ভয়ে গ্রামছাড়া করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর এবার তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

ভুক্তভোগী ওই আয়া জানান, তার স্বামী নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আলীপুরা গ্রামে ভাড়া বাসা নিয়ে থাকেন তিনি। সম্প্রতি গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্টাফ কোয়ার্টারের কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিতে থাকে এলাকার প্রভাবশালী লোকজন। বাধ্য হয়ে গত আট দিন ধরে তিনি বাড়ি ছেড়ে হাসপাতালেই থাকছেন।

এ ঘটনার পর গত কয়েকদিন ধরে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীর চাপে বাড়িওয়ালাও তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলছেন। বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী ভাই ও দুই সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বারবার বাড়ি ছাড়ার জন্য বলা হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও গ্রামের প্রবেশ মুখসহ অন্তত তিন জায়গায় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে কেউ গ্রামের বাইরে যেতে পারছে না।

এ ব্যাপারে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদী জানান, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যাতে কোনো ভাবে হয়রানি করা না হয় সে লক্ষ্যে একটি আদেশ দিয়েছেন তিনি। যদি কোনো ব্যক্তি বা লোকজন ওই আোকে গ্রামছাড়া এবং তার পরিবারের লোকদের বাড়িছাড়া করার হুমকি দিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গজারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করেছেন তারা দেশের শত্রু। স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট আমাদের প্রয়োজনেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ওই আয়া যাতে নির্বিঘ্নে হাসপাতলে যাওয়া-আসা করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গজারিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, রাস্তা বন্ধ করতে বলা হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরএআর/জেআইএম