টিকে থাকতে হবে এই ধূসর পৃথিবীতে

টিকে থাকতে হবে এই ধূসর পৃথিবীতে

সুজন হাজং

টিকে থাকতে হবে এই ধূসর পৃথিবীতে
শুনতে হবে স্নিগ্ধ ভোরে পাখিদের গান,
দেখতে হবে মাথার উপর বিস্তৃত নীল আকাশ আর গোধূলির ডুবে যাওয়া
রক্তিম সূর্য।
ভালোবাসতে হবে বিশাল বনভূমি, বিস্তীর্ণ জলরাশি, অবারিত সবুজ ফসলের মাঠ আর শিশুদের নিষ্পাপ হাসি।
সঞ্চয়ে রাখতে হবে নদীতে জমে থাকা পলিমাটি, কৃষকের লাঙল আর বুকভরা নিঃশ্বাস।
এই মৃত্যুর উপত্যকায় এসে কেউ কারো লাশ কাঁধে নিতে চাইবে না, কেউ পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে শেষ বিদায় জানাতে চাইবে না।
পিতার কাছে সন্তানের, জননীর কাছে জন্মভূমির চির অটুট বন্ধন
ছিঁড়ে যাবে খেরোখাতার পাতার মতো।
সামাজিক দূরত্বের দায়বদ্ধতার শেকলে বাঁধা থাকবে সমস্ত আবেগ,
স্নেহ-ভালোবাসা।
এই অসুখ এখন শহর থেকে গ্রামে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়ছে, চোখের পলকে হাজার হাজার মাইল ছুঁয়ে যাচ্ছে!
পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলে অন্ধকারে আমাদের পথ চলতে হবে একাকী…
সামনে ধূ ধূ বালুচর
ক্ষুধা তৃষ্ণায় হঠাৎ শুকিয়ে যাবে কণ্ঠনালী,
বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ শুনে মনে হবে আমরা অদৃশ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছি ক্রমাগত…
হয়তো আর কোনদিন ঘরে ফেরা হবে না
প্রিয়জনের কাছে, নিজের সন্তানদের কাছে।
হে যুবক, মনে রেখো প্রিয়তমার ঠোঁটে একটি চুম্বনের জন্য হলেও বেঁচে থাকতে হবে আমাদের…

এসইউ/জেআইএম