বাড়িঅনলাইন ডেস্কপুরো বিশ্বের নজর এখন মিয়ানমারের এই ব্যক্তির দিকে

পুরো বিশ্বের নজর এখন মিয়ানমারের এই ব্যক্তির দিকে

 

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে আবারও ক্ষমতা গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। সে সঙ্গে মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনী সমর্থিত ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক জেনারেল মিন্ট সোয়ে। ক্ষমতা গ্রহণের পরই এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তিনি। এর আগে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দেশটির রাষ্ট্রপতি উইন মিনত ও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করে সেনাবাহিনী।

যার নেতৃত্বে নেপথ্যে থেকে পুরো এই অভ্যুত্থান প্রক্রিয়া চলছে তিনি হলেন মিয়ানমারের ক্ষমতাধর শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাং। এখন জেনারেল মিং অং হ্লাং-এর দিকেই এখন সবার নজর। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সম্পর্কে খুব কম তথ্যই জানা যায়। এরপরেও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স মিং অং হ্লাং-এর নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তার ভূমিকার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেছে।
আরো পড়ুনঃ সূ চি গ্রেফতারে মিয়ানমারে আনন্দ মিছিল

৬৪ বছর বয়সী মিন অং হ্লাং রাজনৈতিক অ্যাকটিভিজমের বিষয়ে স্পষ্টবাদী। ১৯৭২-৭৪ সালে তিনি যখন ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়েন তখন দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে আগ্রহী ছিলেন না তিনি। ২০১৬ সালে তার এক সহপাঠী রয়টার্সকে জানান, ‘তিনি খুব অল্প কথার মানুষ আর সাধারণত লো প্রোফাইলের।’
সহপাঠী শিক্ষার্থীরা যখন বিক্ষোভে যোগ দিতেন তখন মিন অং হ্লাং প্রতি বছরই মিলিটারি বিশ্ববিদ্যালয়, দ্য ডিফেন্স সার্ভিস অ্যাকাডেমি (ডিএসএ) ভর্তির আবেদন করতেন। তৃতীয় বারের চেষ্টায় ১৯৭৪ সালে তিনি সফল হন।
ডিএসএ-তে তার ক্লাসের এক সদস্য ২০১৬ সালে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন। ওই সদস্যের সঙ্গে মিন অং হ্লাংয়ের প্রতিবছর ক্লাস রিইউনিয়নে দেখাও হয়। ক্লাসমেট জানান, তিনি নিয়মিত এবং ধীরে ধীরে প্রমোশন পেতেন।’ তাকে অফিসারদের মাঝামাঝি র‍্যাংকে উঠে আসতে দেখার সময়ই ওই ক্লাসমেট অবাক হয়েছিলেন।
আরো পড়ুনঃ সু চির উত্থান ও পতন
২০১১ সালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হতেই মিন অং হ্লাং সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নেন। মিয়ানমারের কূটনীতিকেরা জানান ২০১৬ সালে অং সান সু চির প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ে মিন অং হ্লাং স্বল্পভাষী সেনাসদস্য থেকে নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ এবং পাবলিক ফিগার হিসেবে বদলে ফেলেন।
পর্যবেক্ষকরা এক্ষেত্রে উল্লেখ করে থাকেন তার কার্যক্রম, মঠ পরিদর্শন কিংবা যাজকদের সঙ্গে বৈঠকের মতো কার্যক্রম ফেসবুকে প্রকাশ করার কথা । ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণে মুছে দেওয়ার আগ পর্যন্ত তার সরকারি ফেসবুক পাতায় ছিলো লাখ লাখ অনুসারী।
মিন অং হ্লাং অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়েও পড়াশোনা করেছেন। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান কোনও সময়েই পার্লামেন্টে ২৫ শতাংশ সামরিক আসনের বিধান বাতিল কিংবা সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার বন্ধ পথ খুলে দিতে সংবিধান সংশোধনের আগ্রহের কোনও লক্ষণ দেখাননি।
শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ক্ষমতার মেয়াদ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ান মিন অং হ্লাং। ওই সময়ে ধারণা করা হচ্ছিল সামরিক নেতৃত্বের নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে হয়তো তিনি সরে যাবেন। তবে তিনি নিজের মেয়াদ বাড়ানোয় অনেক পর্যবেক্ষকই অবাক হন।
২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের কারণে সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের মধ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গণ অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে আর এসব করা হয়েছে গণহত্যার উদ্দেশ্য থেকে। এর জেরে জাতিসংঘ ২০১৯ সালে মিন অং হ্লাং ছাড়াও আরও তিন সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ আরও কয়েকটি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।

 

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments