বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘মুজিবনামা’ লিখলেন ভোলার আনসার কমান্ড্যান্ট আহসান উল্লাহ

  • 6
    Shares

মাসুদ আলম ॥

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘মুজিবনামা’ নামে মহাকাব্য রচনা করেছেন বর্তমান ভোলা জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মোঃ আহসান উল্লাহ। মহাকবি মোঃ আহসান উল্লাহ বাংলা ১৩৮৫ সনের ২৭ মাঘ (১০ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিঃ) শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে চন্দ্রপুর এএইচপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ নিয়ে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, খোঁয়াজপুর, মাদারীপুর থেকে ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান নিয়ে উচ্চ মাধ্যিমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০০ সালে বিবিএ (সম্মান) ও ২০০১ সালে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পরিচালক পদে ময়মনসিংহ জেলায় প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন। ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় জেলা কমান্ড্যান্ট পদে ও বেশ কয়েকটি আনসার ব্যাটালিয়নে অধিনায়ক হিসেবে চাকরি করেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত দ্বীপ জেলা ভোলায় উপ-পরিচালক (জেলা কমান্ড্যান্ট) পদে কর্মরত আছেন। ছোটবেলা থেকেই তার বাংলা সাহিত্যের প্রতি অগাধ অনুরাগ সৃষ্টি হয় এবং তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা করতে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন তার প্রথম উপন্যাস ‘আঁধার ঘেরা পূর্ণিমা’ প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি তৎকালীন সময়ে বেশ সাড়া ফেলে এবং বেশ ব্যবসা সফল হয় বলে জানা যায়।

আজও চাকরির পাশাপাশি তিনি বেশ ভালোই সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। যার ফলস্বরূপ তিনি রচনা করেন তার প্রথম মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’। এছাড়াও প্রবন্ধ, নাটক, দেশাত্মবোধক কবিতা, সনেট ও গান রচনায় তার বেশ হাতযশ রয়েছে। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছি।

তিঁনি কোন মাপের নেতা ছিলেন তা আজ আমরা তাঁকে হারানোর পরে বুঝতে পারছি। তবে বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের দর্শন আজো আমরা পুরো উপলব্ধি করতে পারিনি, এর প্রয়োগতো দূরের কথা। তাই বঙ্গবন্ধুর ন্যায় মহামানবের সম্পূর্ণ দর্শনকে সাবলীলভাবে বিশে^র নিকট তুলে ধরতেই আমার এ মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’ রচনা। এখানে আমি সনেট ছন্দে (প্রতি লাইনে চৌদ্দ বর্ণ) এ মহামানবের মহাজীবনী তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’ মম প্রকাশনী থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের একুশে বইমেলাতে, আবার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় জুন ২০২০ খ্রিস্টাব্দে। বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুুসূদন দত্ত লিখেছেন সর্বমোট নয়টি সর্গে একমাত্র স্বীকৃত মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ’।

‘মেঘনাদবধ’ মহাকাব্য লিখতে গিয়ে তাকে মধ্যযুগের ‘ইলিয়াড’, ‘ওডিসি’, ‘শাহনামা’ ও প্রাচীন ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’ এর মত অনেক বড় বড় মহাকাব্য পড়তে হয়েছে। মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’ রচনা করতে গিয়ে আমাকেও ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, ‘ইলিয়াড’, ‘শাহনামা’ এমনকি ‘মেঘনাদবধ’ এর মত মহাকাব্য ভালোভাবে রপ্ত করতে হয়েছে। মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’ বাংলা সাহিত্যে সাফল্য কুড়িয়ে আনবে বলে আমি মনে করি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ মহাকাব্য একসময় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে আপামর পাঠকের মনে জায়গা করে নিবে।” জানা যায়, মহাকবি আহসান উল্লাহ বই বিক্রির আয় দিয়ে নিজ এলাকায় একটি বৃদাশ্রম পরিচালনা করেন। এ থেকে লেখকের সমাজসেবারও বড় পরিচয় পাওয়া যায়। পরিশেষে এ মহাকবি মহাকাব্য ‘মুজিবনামা’ পাঠ করে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনদর্শনকে ভালোভাবে জানা ও মানার জন্য বাংলা সাহিত্যের সকল বইপ্রেমী পাঠকদের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।