বন্ধের মধ্যেও চলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি কার্যক্রম

বন্ধের মধ্যেও চলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি কার্যক্রম

আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোড নম্বর যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত ২২ এপ্রিল বেসরকারি শিক্ষকদের একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানোর পর এ কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হয়েছে।

প্রায় এক দশক পর গত বছরের ২৩ অক্টোবর একযোগে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ওই বছরের ১২ নভেম্বর ছয়টি এবং ১৪ নভেম্বর একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। নতুন এমপিও পাওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের গত বছরের (২০১৯) জুলাই থেকে নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু এখনো এমপিও তালিকা প্রকাশ করলেও বেতন ছাড়ের আদেশ জারি করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শুক্রবার জাগো নিউজকে বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় এমপিওভুক্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধের মধ্যে চলমান এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এমপিওভুক্তি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করার পর তা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করা হয়। একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির গঠনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোড নম্বর দেয়া হবে। কাজ শেষে আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বন্ধের মধ্যেও এ কার্যক্রম শেষ করতে নতুনভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সুবিধা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

২০১৮ সালে এমপিওভুক্তির জন্য প্রায় ৯ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে। এই আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর ২ হাজার ৭৩০টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা চালু না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন করা হয়। তারপর এ কার্যক্রম আবারও শুরু করার সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নতুন করে এমপিওভুক্তি কার্যক্রম শুরু করায় বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি শুক্রবার জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনের পর এ কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। এতে করে সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্ট মোচন হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ ও কতৃজ্ঞতা জানিয়েছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

এমএইচএম/এমএসএইচ/এমকেএইচ