বাড়িআবহাওয়াবৈশাখী বৃষ্টিতে রোজাদারদের মাঝে স্বস্তি, স্বস্তি করোনাতেও!

বৈশাখী বৃষ্টিতে রোজাদারদের মাঝে স্বস্তি, স্বস্তি করোনাতেও!

বৈশাখের ১৩ তারিখ আজ। কড়কড়ে রোদে যখন প্রকৃতির রুক্ষ রূপ দেখার কথা ছিল, তখন ঝড়ছে রহমতের অঝোর ধারা। গ্রীষ্মের দাবদাহে রোজা রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন অনেকেই। তবে প্রথম রমজানের ভোররাত থেকে ঝরছে অঝোর ধারা। শীত শীত অনুভূতিতে মোটামুটি ভালোই আছেন চট্টগ্রামের রোজাদাররা। তবে অনেকে মনে করছেন, এই বৃষ্টি প্রভাব ফেলবে করোনা পরিস্থিতিতে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস বলছে, চট্টগ্রামে ‘স্বাভাবিক’ নিয়মেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। প্রি-মনসুন আবহাওয়ার কারণেই অতি সঞ্চালনশীল মেঘমালার আধিক্য। সে কারণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খানিকটা বেশি।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিত চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৈশাখের বৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। এ বৃষ্টিপাত আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এই যেমন সকালে কিছুটা, রাতে কিছুক্ষণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (বেলা ১২টা) পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ বৃষ্টির ফলে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত থাকবে দিনের তাপমাত্রা।

চট্টগ্রামে বৃষ্টির কারণে আজ তাপমাত্রা নেমে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসে ঠেকেছে। মাঝারি বৃষ্টির স্পর্শে জনশূন্য শহরে দেখা দিয়েছে সজীবতা। ধূলার দূষণ মাড়িয়ে প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। গাছে গাছে সবুজের প্রাণোচ্ছ্বল সজীবতা প্রশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ।

শুক্রবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়। কখনও হালকা, কখনও ভারী আকারে আবার কখনও মুষলধারে এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে আজ দুপুর পর্যন্ত।

বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমতে শুরু করেছে। রোববার সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন না নগরীর বাসিন্দারা।

ctg-(1)

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর চকবাজার, বিবিরহাট, কাপাসগোলা, বাদুড়তলা, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, বাকলিয়া, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁওয়ের নিচু এলাকায় হাঁটুপানি জমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি স্থায়ী হলে সমস্যায় পড়বেন করোনায় ঘরবন্দি মানুষ।

স্বস্তির এ বৃষ্টির মাঝেও নগরবাসী করোনা-ভীতি ভুলে থাকতে পারছেন না। তাদের মনে কৌতূহল, স্বস্তির এ বৃষ্টিতে কি করোনা কমবে?

বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্যমতে, সাধারণত উষ্ণতা বেশি থাকলে এ ভাইরাস কম ছড়ায়। সে হিসেবে বৃষ্টিতে সংক্রমণের হার কমবে না বাড়বে তা জানতে দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে। তবে করোনা-আক্রান্ত কেউ হাঁচি-কাশি দিলে সেটা রাস্তায় পরে। ভারী বৃষ্টি হলে সেগুলো ভেসে যায়। সামাজিক দূরত্বও মানা হয়ে যাচ্ছে অনেকটাই। এভাবেই হয়তো শুদ্ধতা পাবে চারপাশ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর তাদের এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি-১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে।

রোববার সন্ধ্যা নাগাদ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ভারী বর্ষণের কারণে কোথাও ভূমিধসের কোনো শঙ্কা নেই।

আজ বৃষ্টি ছাড়াও যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবু আজাদ/এসআর/পিআর

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments