ভাসমান মানুষের তালিকা করার নির্দেশ

ভাসমান মানুষের তালিকা করার নির্দেশ

গৃহহীন ও ভাসমান মানুষ যাদের ঘর নেই, তাদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনেকের কোনো ঘর নেই, রেল স্টেশন, টার্মিনাল, ফ্লাইওভার, খোলা আকাশের নিচে শিশুসহ অসংখ্য মানুষ গৃহহীন অবস্থান করছেন। গৃহহীন এসব মানুষের তালিকা করে তাদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ত্রাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অসহায় গরীব মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আগে ওবায়দুল কাদের তার বাসা থেকে ভিডিও কানফারেন্সিংয়ে সংযুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

দলীয় নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিছুক্ষণ আগে আমি কথা বলেছি। আপনাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। আপনারা ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যার অঙ্গীকার গৃহহীনকে গৃহ দেওয়া। এজন্য দলীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় তালিকা প্রণয়নে সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে আমরা বলছি ঘরে থাকতে হবে। আমি নিজেও ঘরে রয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। কিন্তু যাদের ঘর নেই তারা থাকবে কোথায়? এদের ব্যাপারে আমাদের চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

কাদের বলেন, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ভাসমান মানুষের তালিকা প্রণয়ন করার জন্য। পাশাপাশি ওই সকল ভাসমান মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ত্রাণ উপ কমিটি ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করতে পারেন।

পোশাক কারখানার মালিকদের উদ্দেশে বলেন, করোনা সংকটে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্ডার বাতিল হয়ে যাবে এমন আশঙ্কার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের পোশাক কারখানা সীমিত আকারে চালু করার অনুমতি দিয়েছেন। কথা ছিল এই সকল ফ্যাক্টরিতে ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিকদের কাজে লাগাবে, মালিকরা সেটা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আমরা গণমাধ্যমের খবরে দেখছি প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক ঢাকার বাইরে থেকে আসছে চাকরি হারানোর ভয়ে। বিষয়টি মালিকরা যেন দেখেন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন বাস্তবায়ন করেন।

পরে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরীব অসহায় মানুষের জন্য ২২০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু।