মোহাম্মদপুরে মূলহোতাসহ দুই ছিনতাইকারী আটক

মোহাম্মদপুরে মূলহোতাসহ দুই ছিনতাইকারী আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ের ভাঙা মসজিদের সামনে থেকে চাপাতি ধরে কারওয়ান বাজারের আড়ৎ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনতাইয়ের মামলার ঘটনায় চাপাতিসহ মো. সোহাগ উরফে ডায়মন্ড সোহাগ (১৯) ও মো. দিলসাদ (১৯) নামে ২ ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকা থেকে ২৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে মোহাম্মদপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা (মামলা-২৯) করে ভুক্তভোগী মো. খোরশের গাজী। মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আড়তের মালের ৬১ হাজার টাকা নিয়ে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে রওনা করেন সাইকেলে করে।

পুলিশ আরও জানায়, এ সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। হঠাৎ মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ের ভাঙা মসজিদের সামনে আসলে তিনজন গতিরোধ করে চাপাতি ধরে তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

মামলা হওয়ার পর থেকে মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. প্লাবন আহমেদ রাজীব ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। রাতেই মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান থেকে কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা সোহাগ উরফে ডায়মন্ড সোহাগ এবং হাজারীবাগ থেকে তারই অন্যতম সহযোগী দিলসাদকে আটক করে এসআই রাজীব।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি ও ছিনতাই হওয়া ৬১ হাজার টাকার মধ্যে ২৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সাথে জড়িত থাকা আরেক আসামি মোহাম্মদপুরের ৩৩নং ওয়ার্ডের ইউনিট যুবলীগের এক নেতার ভাই। তাকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এর আগে কিশোর গ্যাং সোহাগ উরফে ডায়মন্ড সোহাগকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। তারা পুলিশের কাছে ছিনতাইয়ে সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেছে।

মামলার বাদী মো. খোরশেদ গাজী জাগো নিউজকে বলেন, আমি কারওয়ান বাজারে মমতাজ এন্টার প্রাইজ আড়তে ব্যবসা করি। রাতে পেঁয়াজ আসার কথা রয়েছে। তাই আমি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে বের হই। কিছুদূর সামনে আসলে মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ের ভাঙা মসজিদের সামনে আসলে তিনজন আমার গতিরোধ করে। তখন তাদের হাতে থাকা চাপাতি আমার গলায় ধরে বলে যা আছে সব দিয়ে দে।

তিনি বলেন, আমি টাকা দিতে না চাইলে আমাকে চাপাতির বাট দিয়ে ও হাত দিয়ে কিল ঘুষি মারতে থাকে। তারপর আমার পকেটে থাকা ৬১ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তারপর আমি বাসায় চলে যাই। ৯৯৯ কল করে ঘটনাটি জানালে আমাকে এসআই নাজমুলের নম্বর দেওয়া হয়। তারপর আমি এসআইয়ের সাথে দেখা করি তিনি সকালে মামলা করতে বলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. প্লাবন আহমেদ রাজীব জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি মূলত ২৩ এপ্রিল রাতের। পরে যে কোনো কারণে ২৪ এপ্রিল আমাকে পরিচিত একজন ফোন করে ঘটনাটি বলে। পরে আমি পুরো ঘটনাটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে শুনি। এরপর পরদিন সকালে ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী একটা ক্লু আমাকে বলে।

তিনি বলেন, এর সূত্রে ধরে আমি আগাতে থাকি। ২৫ এপ্রিল রাতেই ছদ্মবেশে ঢাকা উদ্যানে বৃষ্টির মধ্যে বসে থাকি। বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকি।এরপর পরিচয় গোপন করে ডায়মন্ড সোহাগের সাথে দেখা করার একটা সূত্র পাই। রাত সাড়ে ৯টার সময় ডায়মন্ড সোহাগের দেখা পাই। সেখান থেকে ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা ডায়মন্ড সোহাগকে গ্রেফতার করি।

তিনি আরও বলেন, তার দেওয়া তথ্য মতে হাজারীবাগ থেকে তার সহযোগী দিলসাদকে আটক করি। এরপর তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকালে ব্যবহৃত চাপাতি ও নগদ ২৮ হাজার টাকা উদ্ধার করি। ছিনতাইয়ে ৩ জন জড়িত ছিল। ২ জনকে গ্রেফতার করে ২৬ তারিখ আদালতে পাঠাই। সেখানে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাদের কারাগারের পাঠানো হয়। অন্য আসামি আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সৈয়দ আমানত আলীএমআরএম