রোজায় মুদি-খাদ্যপণ্যের দোকান সারাদিন খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে বর্তমানে সকাল ৬ থেকে দুুপুর ২টা পর্যন্ত মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে। রমজান মাসে সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে এসব দোকান সারাদিন খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান মাসে মানুষ কেনাকাটা করে দুপুরের পর। ওই সময় দোকানপাট বন্ধ থাকলে একদিকে ক্রেতারা নিত্যপণ্য কেনাকাটা করতে পারবেন না, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। নির্দিষ্ট সময়ে দোকান খোলা থাকলে ওই সময় মানুষ কেনাকাটা করতে ভিড় করেন। এতে করে করোনারোধে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাথা সম্ভব হয় না। যদি দীর্ঘ সময় দোকান খোলা থাকে তাহলে ক্রেতার সুবিধামতো সময়ে কেনাকাটা করতে পারবেন। এতে করে বাজার কিংবা দোকানে ভিড় কম হবে। এ ছাড়া রমজান মাসে ইফতার বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে সারাদিন খোলা রাখা প্রয়োজন। তা না হলেও মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বরেন, সেহেরি শেষে নামাজ পরে ঘুমানোর পর রমজান মাসে সকালে সাধারণত মানুষ বাইরে কম বের হয়। এ মাসে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশি কেনাবেচা হয়। তার মানে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কোনো কেনাবেচা হবে না। অন্যদিকে রাজধানীর ৫০ লাখ লোক বাইরে থেকে ইফতার কেনেন। চলমান সংকটকালীন সময়ে এতো সংখ্যক লোক কীভাবে ইফতার কিনবেন। এসব বিষয়ে বিবেচনা করে মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান হয় সারাদিন খোলা রাখা অথবা খোলা রাখার সময় বাড়ানো দরকার। এ জন্য সরকার সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জরুরি।

তিনি বলেন, করোনার বিস্তার রোধে মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে চান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কেনাকাটা করতে গেলে এটি মানা কঠিন হয়ে যায়। তাই বেশি সময় দোকান খোলা থাকলে যার যখন প্রয়োজন তখন গিয়ে কিনবে, ভিড় কম হবে। যেমনটা এখন ওষুধের ফার্মেসিগুলোতে দেখা যায়। সেখানে ভিড় কম। যারা যাচ্ছে সামাজিক দূরত্ব থেকে কেনাকাটা করছেন।

দোকান মালিকদের এ নেতা বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

এদিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে রমজানে রাস্তায় ইফতার তৈরি ও বিক্রির বিপক্ষে প্রশাসন। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে আলোচনায় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আসন্ন রমজানে রাস্তায় কোনো ধরনের ইফতার তৈরি ও বিক্রি যেন না হয়, পুলিশ সদস্যদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আইজিপি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অথবা ইফতার বিতরণের না‌মে জনসমাগম যেন না ক‌রেন, সে‌টি নি‌শ্চিত কর‌তে হ‌বে। ত‌বে, ত্রাণ বিতর‌ণে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। রমজানে যেন কোনোভাবেই ফুটপাতে ইফতার তৈরি ও বিক্রি না হয়, সে ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই ফার্মেসি ছাড়া বাজার, দোকানপাট ও সুপারশপ খোলা ও বন্ধ রাখার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। প্রথমে এলাকার মুদি দোকান দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং সুপারশপ সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর এই সময় ৬টা করা হয়েছিল। রমজান মাসেও এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

ছুটির আওতার বাইরে থাকবে যেসব খাত

জরুরি পরিষেবা: যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্র বন্দর) কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবেন। সড়ক ও নৌপথে সব প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে।

কৃষিপণ্য, সার, কিটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যমে (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) কর্মীরা এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবেন। ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্পসহ সব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে।

এসআই/জেডএ/পিআর