লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দম্পত্তির ভাসমান লাশ উদ্ধার

  • 38
    Shares

­

পটুয়াখালীর বাউফলে নুরাইনপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ঢাকা- কালাইয়া রুটের ডাবল ডেকার লঞ্চ এমভি ঈগল-৪এর ধাক্কায় খেয়া নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দম্পতি মো. আসলাম শরীফফ (২৪) ও মোসা. জান্নাতুল ফেরদাউসের (২০) ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা। ঘটনার ৩৪ঘন্টার পর আজ শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে আসলামারে ভাসমান লাশের দেখা মিলে। কিছুক্ষণ পর তালতলি এলাকায় জান্নাতুল ফেরদাউসের লাশ ভেসে উঠে। পরে স্থানীয় ও নিহতদের স্বজনরা লাশ দুটো উদ্ধার করে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোরে নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে কালাইয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ওই লঞ্চের ধাক্কায় খেয়া নৌকা ডুবে যায়। এতে তিনজন নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরপরই আনোয়ার নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে দিনভর বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবরীদল তল্লাশী চালিয়ে কোন হদিস পায়নি নিখোঁজ দম্পত্তির।
অপরদিকে স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর বেলা ১২টার দিকে লাশ উদ্ধারে অভিযান চালায় ডুবরীদল। বিকালেই সমাপ্তি করা হয় অভিযান।শুক্রবার সকালে আবার অভিযান চালানোর কথা থাকলেও কেউ আসেনি।

নিহত আসলামের বাবা আলম শরীফ বলেন, ছেলে আর ছেলের বউ চলে গেছে। রেখে গেছে ৮মাসের সন্তান। এই এতিম মেয়েটার মুখের দিকে আপনারা একটু তাকান। কি করবো আমি? কোথায় যাবো? কিভাবে ওরে বাচাবো?

জানা যায়, আসলাম শরীফ কেশাবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের আসলাম শরীফের ছেলে। চার বছর আগে বাউফল সদর ইউনিয়নের জালাল মোল্লার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। জান্নাতুল নারায়নগঞ্জের ইপিজেএড এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। আসলাম একই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করত। করোনা পরিস্তিতিতে পোশাক কারখানা থেকে জান্নাতুলকে ছাটাই করা হয়। গত সোমবার বকেয়া বেতন ভাতা আনতে তাঁরা ঢাকা যায়। ঢাকা থেকে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে নুরাইনপুর এলাকায় লঞ্চ থেকে নেমে নৌকায় বাড়ি যাওয়ার পথে ওই দূর্ঘটনার শিকার হয়।

এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসনে বলেন, নিখোঁজ দম্পত্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে। স্বজনদের পক্ষে থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। তারপর বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে দেখছি