সরকারি প্রণোদনায় বৈষম্যের অভিযোগ ড্যাবের

সরকারি প্রণোদনায় বৈষম্যের অভিযোগ ড্যাবের

করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি প্রণোদনা দেয়ার জন্য যে সরকারি পরিপত্র জারি করা হয়েছে তাতে বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সকল চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। না হলে এই করেনা মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না বলেও মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।

শুক্রবার দুপুরে ড্যাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২৩ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ অধিশাখা-৪ কর্তৃক ০৭.১০৪.০২০.২৭০১.৭২.২০১৮-২২৬ স্মারক মূলে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যেসকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি সেবাপ্রদান করবেন তারা করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পজেটিভ হলে সরকারি বিধি মোতাবেক গ্রেড অনুযায়ী সরকার ঘোষিত প্রণোদনাপ্রাপ্ত হবেন।

ওই পরিপত্রের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরীক্ষা অনেক কম হওয়ায় প্রকৃত করোনা রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রবল স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। কোন রোগী করোনা পজেটিভ, কে পজেটিভ নন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা অনুধাবন করা সহজ নয়। ইতোমধ্যে বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল বলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ফিভার ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনকারী ২৫৮জন চিকিৎসকসহ ছয় শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, ক্রমাগতভাবে যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোভিড-১৯ ডেটিকেটেড হাসপাতালের বাইরে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরাই বেশী সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এদের প্রণোদনার বাইরে রাখা অনৈতিক, অন্যায়, নীতিবহির্ভূত।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের স্বাস্থ্য কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালরকারী বেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার বাইরে রাখা হয়েছে যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিরাট বিভাজন, বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে ও নিকট ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সমন্বিত ব্যবস্থপনা, করোনা যোদ্ধাদের উৎসাহিত করা করোনা ভইরাস মোকাবিলার একমাত্র উপায়। সেখানে সরকারের এই প্রজ্ঞাপন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হতাশ করেছে, তাদের মধ্যে বিরাট বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিভাজনের দেয়াল তুলে অপ্রতুল জনবল নিয়ে করোনার মহাপ্রলয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ শুধু কঠিন নয় বরং অসম্ভব।

কেএইচ/এনএফ/এমএস

[ad_2]

নিউজ সোর্স