সাভারে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর কাজে পুনর্বহাল

সাভারে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর কাজে পুনর্বহাল
  • 3
    Shares

সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর কাজে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছাটাইয়ের সিদ্ধান্তে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২ মে) সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার এলাইন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার সামনে গাদাগাদি করে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় ৩ ঘণ্টা বিক্ষোভের পর শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শ্রমিকরা জানায়, এলাইন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় কাজ করে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক। এই কারখানায় দফায় দফায় শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমপক্ষে ৪০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে প্রতিষ্ঠানটি। আজ প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক, যাদের চাকরির বয়স দুই থেকে তিন মাস তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। পরে সকাল থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা বিক্ষোভ করলে শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

৩ ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে কাজে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ


বিক্ষুব্ধ শ্রমিক শারমিন বলেন, আমাদের জোর করে ছাটাই করা হচ্ছে। আমাদের কী অপরাধ আমরা জানি না। এই সংকটময় সময়ে আমাদের পেটে লাথি মারছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমরা কীভাবে থাকব, এ সময় আমাদের চাকরি কে দিবো? করোনা আক্রান্ত না হইয়াও আমাদের মাঝে এর যে প্রভাব পড়েছে তা মৃত্যুর চেয়ে বেশি যন্ত্রনাদায়ক। আমরা যখন ঘণ্টায় ঘণ্টায় গাদাগাদি করে বিক্ষোভ করলাম তারপরে সিদ্ধান্ত জানালো কর্তৃপক্ষ।

আরেক শ্রমিক বলেন, আমাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তায়। আন্দোলনের মুখে ঠেলে দিয়ে আমাদের করোনাভাইরাসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের চাকরি না থাকলে তো আমরা চলতে পারবো না। বাধ্য হয়ে নামতে হবে রাস্তায়, না হলে যেতে হবে গ্রামে। আমরা জীবিকার জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরবো। এতে করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারা আমাদের, আমাদের পরিবারকে এই ঝুঁকিতে ফেলছে।

এ ব্যাপারে কারখানাটির অ্যাডমিন অফিসার (প্রশাসন কর্মকর্তা) লিটন আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

তবে শিল্প পুলিশ-১ এর সিনিয়র এএসপি আউয়াল হোসেনের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের পুনর্বহাল করা হয়। আউয়াল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ওই কারখানায় শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো। এসময় কারখানা কর্তৃপক্ষকে শ্রমিক ছাঁটাই থেকে বিরত থাকতে বলি। পরে শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।